এ কোন আলোয় আলোকিত করা হচ্ছে

কখনো ভাবিনি এমন একটি পোস্ট দেব। ফেব্রুয়ারীর ১৯ তারিখে প্রিয় ব্লগার চরম উদাস পোস্ট দিয়েছিলেন বই চুরি নিয়ে। লেখার স্বত্বাধিকার এবং তার অপহরণ নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়েছিল সে পোস্টে। ওনার সাথে সহমত প্রকাশ করেছিলাম পোস্টটিকে অত্যন্ত জরুরী পোস্ট জানিয়ে।

তখনো জানতাম না, আমার নিজেকেও এই নিয়ে চাবি বাজাতে হতে পারে, এত তাড়াতাড়ি, বই ত দূরে থাক, ছোট ছোট কয়েকটা অনুবাদ করেই।

কয়েকদিন আগে গুগল খেলা খেলতে খেলতে একটি বাক্যে নজর আটকে গেল – বিয়ে করে প্রাণ গেল। ভাবলাম, কোন হতভাগিনীর কাহিনী। লিঙ্ক ধরে এগোতে গিয়ে দেখি – কি কান্ড! আমার নিজেরই লেখা বয়ান। তবে সংবাদ নয়, গল্প, অনুবাদ, ঈশপের গল্পের অনুবাদ।

একটি দৈনিক বাংলা পত্রিকার ওয়েবসাইটে গল্পটি বসান আছে, সম্পাদকীয় পাতায়, “নীতি গল্প” বিভাগে, সেদিনের নীতিগল্প হিসেবে। গল্পের শেষে দেওয়া আছে “ঈশপের গল্প অবলম্বনে।”
কিন্তু কোথাও উল্লেখ নেই এই অনুবাদটি তারা কোথা থেকে সংগ্রহ করেছে। পড়লে মনে হবে অনুবাদের কাজটা পত্রিকার তরফ থেকেই করা হয়েছে।

ঘাঁটাঘাঁটি করে দেখলাম, আমার অনুবাদগুলি নিয়ে এ কাজটি তারা নিয়মিত করে যাচ্ছেন এই বছরের মে মাসের শেষ দিক থেকে। মনে হয়, ২৫শে মে থেকে। তার আগে ঐ বিভাগে ঈশপের গল্পের যে অনুবাদগুলি তারা প্রকাশ করেছেন, সেগুলির সূত্র আমার জানা নেই। কিন্তু ঐ তারিখের পর থেকে যেমন ইচ্ছে তারিখ বসিয়ে যতবার খোঁজ চালালাম সব বারই আমার অনুবাদ উঠে এল।

অনুবাদগুলির যা যা বৈশিষ্ট্য চোখে পড়লঃ
(১) গল্প অংশটি প্রায় সর্বদাই হুবহু এক। কদাচিৎ দু’-একটি শব্দ ছাড়া।
(২) শিরোনাম মাঝে মাঝে সম্পাদিত বা আলাদা।
(৩) আমার অনুবাদে আমি যেটা “প্রাচীন বচন” বলে লিখেছি, এই পত্রিকায় তা “উপদেশ” বলে লেখা হয়েছে। এই অংশটি কখনো কখনো খানিকটা পাল্টানো হয়েছে। কখনো কখনো একই রাখা হয়েছে।
(৪) আমার লেখার “আমি বলি” অংশটা বাদ দেওয়া হয়েছে।
(৫) কখনো উল্লেখ করছেন না, অনুবাদটি কার করা, কোন ওয়েবাসাইটে সেটি ইতিমধ্যে প্রকাশিত বা কোন ওয়েবসাইট থেকে তারা সেটি যোগাড় করেছেন।
(৬) অনুবাদটি প্রকাশ করছেন তাদের সম্পাদকীয়র নীতি গল্প বিভাগে।

বুঝলাম, বাংলাভাষায় ঈশপের গল্পের যে কোন অনুবাদে ওনাদের যথেচ্ছ অধিকার। কোন গল্প যেই অনুবাদ করে থাকুক, সেটা নিজেদের পত্রিকায় প্রকাশের জন্য ওনারা অনুবাদক কি প্রকাশককে কোনরকম স্বীকৃতি জানানোর দায় স্বীকার করেন না। আমার কাছে এটি অদ্ভুত মনে হওয়ায় গত ৩০শে জুন আমি নীচের ঠিকানাগুলিতে একটি ইমেইল পাঠাই। ঠিকানাগুলি যোগাড় করেছিলাম পত্রিকাটির ওয়েবসাইটটি থেকেই।

ঠিকানাগুলিঃ

info@alokitobangladesh.com

 

alokitobd7@gmail.com

 

alokitobdad@gmail.com

 

ইমেইলে লিখিঃ

“আলোকিত বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ,

আমার করা ইশপের গল্পের অনুবাদগুলি, অনুবাদকারীর নাম উল্লেখ না করে, সেই অনুবাদ যেখানে প্রকাশিত হয়েছিল সেই প্রকাশনাসূত্রের কোন উল্লেখ না করে, অনুবাদক এবং অনুবাদের প্রকাশকের কোন অনুমতি না নিয়ে দিনের পর দিন নিজেদের সম্পাদকীয় পাতায় নীতি গল্প হিসেবে প্রকাশ করে চলেছেন। এ কেমন নীতি আপনাদের?

আশা করি সত্বর উত্তর দেবেন। আপনাদের উত্তর-এর অপেক্ষায় থাকলাম।

এক লহমা”

আজ পর্যন্ত কোন উত্তর পাইনি। কিন্তু জুলাই ৪ এর সম্পাদকীয়তে দেখলাম আমায় রেহাই দেওয়া হয়েছে। আমার অনুবাদ না নিয়ে অন্য কারো করা অনুবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

জুলাইয়ের ১২ তারিখে পুরনো রোগ ফিরে এল। দুটি শব্দ বাদ দিয়ে গল্প অংশের অনুবাদটি হুবহু প্রকাশ করা হয়েছে।
১৩ই জুলাইঃ শিরোনামে একটি শব্দ ছাড়া বাকি সমস্তটা এক রয়েছে।
১৪ই জুলাইঃ একটু সম্পাদনার ছোঁয়া রয়েছে।
আগ্রহী পাঠক দেখে নিতে পারেন, লিঙ্ক দিলাম
http://www.alokitobangladesh.com/editorial/2014/07/14/84980
http://www.sachalayatan.com/ek_lohoma/50229 (৩৪ নং গল্পটি)
১৫ই জুলাইঃ শিরোনাম আর উপদেশ ছাড়া বাকি সমস্তটা এক রয়েছে।

আগের প্রকাশগুলির কয়েকটি লিঙ্ক এখানে দিলাম

মোরগ ও বাতাই পাখি (আমার অনুবাদের ২৪ নং গল্প)ঃ http://www.alokitobangladesh.com/editorial/2014/06/29/81878
বিয়ে করে প্রাণ গেল (২৭ নং গল্প)ঃ http://www.alokitobangladesh.com/editorial/2014/06/28/81591
বিধবা মহিলা ও কাজের মেয়ে (২০ নং গল্প)ঃ http://www.alokitobangladesh.com/editorial/2014/06/21/80214
দুই কলসির গল্প (১৮ নং গল্প)ঃ http://www.alokitobangladesh.com/editorial/2014/06/18/79595
নির্বোধ ব্যাঙ (১৪ নং গল্প)ঃ http://www.alokitobangladesh.com/editorial/2014/06/15/78945
খরগোশ ও ব্যাঙের দল (১১ নং গল্প)ঃ http://www.alokitobangladesh.com/editorial/2014/06/11/78343(এটিতে উপদেশটির কথাগুলি বদলে দেওয়া হয়েছে। গল্পর অনুবাদ হুবহু আমার অনুবাদটি নিয়ে নেওয়া হয়েছে)
কুকুর আর ঝিনুক (৯ নং গল্প)ঃ http://www.alokitobangladesh.com/editorial/2014/06/08/77750

আন্তর্জালে ঈশপের গল্পগুলি সকলে সহজেই বাংলা ভাষায় পড়তে পারবে এই আশায়, এই আকাঙ্খায় এই অনুবাদগুলি শুরু করেছিলাম, সচলায়তনের পড়ুয়াদের আগ্রহে, উৎসাহে এখনো করে চলেছি। সেই অনুবাদগুলিকে এমন ভাবে দিনের দিনের পর দিন কোন সংস্থা আমায় বা সচলায়তনকে না বলে, না জানিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, কোথা থেকে নিয়েছে সেটার উল্লেখ পর্যন্ত করছে না, এতটা খোলাখুলি নির্লজ্জতা কি ভাবে সম্ভব? এটা তারা করছে কি ভাবে?

এমনকি এ নিয়ে প্রশ্ন করলে একটা উত্তর দেওয়ার বোধটুকু পর্যন্ত তারা দেখায়নি!

ভবিষ্যতে কি ব্যবস্থা নেবো এখনো ঠিক করিনি। আপাততঃ এদের এই নীতি গল্পের কথা সচল পাঠকের নজরে নিয়ে এলাম। আগামী দিনগুলিতে যেদিন যেমন নজরে পড়বে এদের এই কাজের পরিচয় এখানে রেখে যেতে থাকার ইচ্ছে রাখি।

এই পাতাটি কি এখন থেকে এদের কীর্তি-দেয়াল হয়ে উঠবে? দেখা যাক।

তাদের সম্পাদকীয় পাতায় নীতি গল্প হিসেবে আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকা চুরি করে লেখা প্রকাশ করেই চলেছে।
আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকা কর্তৃক আমার অনুবাদ চুরির সর্বশেষ সংযোজন এখানে দিলাম।

কীর্তি-দেয়ালে সাম্প্রতিক সংযোজনঃ

জুলাই ১৬, ২০১৪ আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকা কর্তৃক চুরি, সম্পাদকীয় পাতায় নীতি গল্প – http://www.alokitobangladesh.com/editorial/2014/07/16/85359
উপরের লেখাটির জন্য আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকা চুরি করেছে আমার করা ঈশপের গল্প-র অনুবাদের ৩৮ নং গল্প। আমার অনুবাদের লিঙ্ক এখানে http://www.sachalayatan.com/ek_lohoma/50505

জুলাই ১৭, ২০১৪ আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকা কর্তৃক চুরি, সম্পাদকীয় পাতায় নীতি গল্প –
http://www.alokitobangladesh.com/editorial/2014/07/17/85506
উপরের লেখাটির জন্য আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকা চুরি করেছে আমার করা ঈশপের গল্প-র অনুবাদের ৩৬ নং গল্প। আমার অনুবাদের লিঙ্ক এখানে
http://www.sachalayatan.com/ek_lohoma/50505

হালনগদঃ
চোর আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকা চুরি করেই চলেছে।
চোর আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকা কর্তৃক আজকে জুলাই ১৮ , ২০১৪-র চুরি, সম্পাদকীয় পাতায় নীতি গল্প –
http://www.alokitobangladesh.com/editorial/2014/07/19/85967
উপরের লেখাটির জন্য আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকা চুরি করেছে আমার করা ঈশপের গল্প-র অনুবাদের ৫ নং গল্প। আমার অনুবাদের লিঙ্ক এখানে
http://www.sachalayatan.com/ek_lohoma/50053

AmitC@lohomaএ কোন আলোয় আলোকিত করা হচ্ছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*